মহররম মাসের ফজিলত, করনীয়, রোজা ও আমল | মহররম মাসের ইতিহাস | ইসলামিক ক্যালেন্ডারের প্রথম মাস

মহররম মাসের ফজিলত, করনীয়, রোজা ও আমল

জ থেকে শুরু হলো ১লা মহররম, ১৪৪৪ হিজরি। আলহামদুলিল্লাহ।

আল্লাহর গণনায় মাস হলো ১২টি। এই ১২টি মাসের মধ্যে সম্মানিত হারাম মাস ৪টি। যে মাসগুলোতে সকল যুদ্ধ ও রক্তপাতকে মহান আল্লাহ তায়ালা হারাম বলে ঘোষণা করেছেন। এ মাসগুলোতে পাপকাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখার জন্য আলাদাভাবে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে । এই ৪ টি মাসের মধ্যে মহররম একটি। এটি হিজরি বছরের প্রথম মাস। যা হযরত ওসমান (রা)-এর প্রস্তাবনায় হিজরি বছরের প্রথম মাস হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়। মহররমকে আল্লাহর মাসও বলা হয়ে থাকে।
আমাদের চ্যানেল টি সাবস্ক্রাইব করুন
রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন, রমজানের রোজার পর সবচেয়ে উত্তম রোজা হলো মহররম মাসের রোজা।’ (মুসলিম)
মহররম মাসের ১০ম দিনকে আশুরা বলা হয়। এ দিন আল্লাহ তাআলা হযরত মুসা (আ) এবং তাঁর জাতিকে ফেরাউনের জুলুম থেকে মুক্তি দিয়েছেন। এ উপলক্ষ্যে ইসলামের আগমনের আগে থেকেই ইয়াহুদিরাও রোজা রাখতেন।


রাসুলুল্লাহ (সা) মদিনায় হিজরতের পর দেখেন ইয়াহুদিরা এদিন রোজা পালন করছে। তখন রাসুলুল্লাহ (সা) বললেন, আমরা হযরত মুসা (আ)-এর অনুসরণ করার ব্যাপারে তোমাদের চেয়ে অধিক হকদার। তিনি নিজে সেই (আশুরার) দিনের রোজা পালন করলেন এবং সাহাবাদেরকেও (এই আশুরার দিন রোজা রাখার) নির্দেশ দিলেন।’ (বুখারি)
আশুরা উপলক্ষে ইয়াহুদিরা ১ দিন (আশুরার) রোজা রাখতো। সে কারণে রাসুলুল্লাহ (সা) ব্যতিক্রম করতে বলেছেন।
যেহেতু এ দিন ইয়াহুদিরাও রোজা রাখে সে কারণে তাদের ব্যতিক্রমস্বরূপ ৯ মহররমও রোজা পালন করা উচিত। কেননা রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন, আমি যদি আগামী বছর বেঁচে থাকি তাহলে ৯ ও ১০ মহররম দুই দিনই রোজা রাখবো।’ (মুসলিম)
আশুরার দিনের রোজা রাখার ফজিলত বর্ণনায় রাসুলুল্লাহ (সা) বলেন, ‘আল্লাহর কাছে আশা করি তিনি বিগত এক বছরের গোনাহ ক্ষমা করে দেবেন।’ (মুসলিম)


এ দিনটিকে কেউ কেউ শুধু কারবালার মাতক ও শোকানুষ্ঠান হিসেবে উদযাপন করে থাকে। রাসুলুল্লাহ (সা)-এর প্রিয় নাতি হযরত ইমাম হুসাইন (রা)-এর হৃদয়বিদারক শাহাদাত দিবস হিসেবে শরীরে আঘাত করতে থাকে; শরীর রক্তাক্ত করতে থাকে; তাজিয়া মিছিল তথা যুদ্ধের সাজ সাজ পোশাকে ঘোড়া সাজিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে; হযরত হুসাইন (রা)-এর কৃত্রিম মাজার তৈরি করে রাস্তায় প্রদর্শণীতে নেমে পড়ে; আশুরা উপলক্ষ্যে এসব আয়োজন ও আমল বর্জন করা এবং এসব আমলের ব্যাপারে ইসলামের কোনো অনুমোদনই নেই।
তবে এদিন ইবাদত-বন্দেগির পাশাপাশি হযরত ইমাম হুসাইন (রা)-এর স্মরণে তার জীবন ও কর্মশীর্ষক আলোচনা সভা হতে পারে। কারবালার প্রান্তরে শাহাদাতবরণকারীদের জন্য দোয়ার অনুষ্ঠানও করা যেতে পারে। ইসলামের বিজয়ের জন্য তাদের ত্যাগ ও অবদান তুলে ধরা এবং মুসলিম উম্মাহর মাঝে অনুপ্রেরণা জাগিয়ে তোলা খারাপ কিছু নয়।
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে মহররম মাসের মর্যাদা রক্ষার এবং আশুরার ৯ ও ১০ তারিখ রোজা পালনসহ ইসলামের কল্যাণে আশুরার ঘটনাবহূল আলোচনা মানুষের কাছে তুলে ধরার তাওফিক দান করুন। কুরআন-সুন্নাহর উপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন।
আমিন।



=========================================
Check us out, Follow us, & Like us over at:
Subscribe my channel: https://bit.ly/2kFnKOb
Contributor: https://shmilon.com
=========================================

Post a Comment

0 Comments